চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য প্রায় ১১ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে শুধু ইংরেজি বিষয়েই রেকর্ড সংখ্যক ২ লাখ ৯১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে গত ২২ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রায় ১৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় খাতা চ্যালেঞ্জ বা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য সারাদেশে মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার থেকে প্রায় ১১ লাখ আবেদন জমা পড়েছে।
- সব বিষয়ের মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
- নির্ধারিত ফি অনুযায়ী প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি নেওয়ায় এই আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রায় ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় খাতা চ্যালেঞ্জ করে প্রায় ১১ লাখ আবেদন জমা পড়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফল প্রকাশের পর গত ২২ অক্টোবর থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে সচল ছিল। শিক্ষার্থীরা টেলিটক প্রিপেইড নম্বরের মাধ্যমে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে এই আবেদন সম্পন্ন করেন।
এবারের পুনঃনিরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি বিষয়ের প্রতি অনীহা ও ফলাফলের অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইংরেজি বিষয়েই ২ লাখ ৯১ হাজারের অধিক পরীক্ষার্থী খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করেছেন। মূলত নম্বর কম আসা কিংবা কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ না পাওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা এই আবেদন করেন। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন করে নম্বর যোগ, কোনো উত্তর মূল্যায়িত হয়েছে কিনা এবং প্রাপ্ত নম্বর মার্কশিটে সঠিকভাবে উঠেছে কিনা তা যাচাই করা হয়, তবে সরাসরি উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হয় না।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড সংখ্যক এই আবেদনের কারণে বোর্ডের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি আবেদনের জন্য ১৫০ টাকা ফি ধার্য করায় এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোট আয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে অর্থাৎ নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ এই পুনঃনিরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। প্রকাশিত ফলে অনেকের নম্বর পরিবর্তন হতে পারে এবং কেউ কেউ নতুন করে জিপিএ-৫ পেতে পারেন।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক মহলের মতে, প্রতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার প্রবণতা প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। অন্যদিকে, পুনঃনিরীক্ষার পর যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তিত হবে, তাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সজাগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।