লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৪ কারখানার ৭৩৯ কর্মী ছাঁটাই

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 20 অক্টোবর 2026, 08:22 সকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 19 বার পঠিত
গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৪ কারখানার ৭৩৯ কর্মী ছাঁটাই
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি কারখানা থেকে দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে কারখানাগুলোর ফটকে নোটিশ টাঙানো হয়। ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অতিরিক্ত জনবলের কারণে উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড থেকে মোট ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
  • ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে ছিল, যা পরবর্তীতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে স্থায়ী ছাঁটাইয়ে রূপ নেয়।
  • ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী সকল আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার ঘোষণা দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায় মোট ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে এই ছাঁটাইসংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কারখানাগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা নোটিশে ছাঁটাইয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তীব্র ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নেয় এবং বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে। জানা যায়, গত ৬ জুন থেকেই কারখানাগুলো লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন দফায় সেই লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকা দেখতে কারখানার মূল ফটকের সামনে ভিড় করেন শত শত ভুক্তভোগী শ্রমিক। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই কারখানার সুইং সেকশনে অপারেটর হিসেবে কাজ করা ইয়াসমিন বেগম এবং ১৯ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত আবেদা বেগম চাকরি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তারা জানান, হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত আসায় পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা এবং জীবিকা নির্বাহ করা তাদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া সকল শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা শ্রম আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে পরিশোধ করা হবে।

শিল্পাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, কেয়া গ্রুপের এই আকস্মিক ছাঁটাইয়ের ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং পোশাক খাতের কর্মসংস্থানে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গ্যাস সংকট ও ব্যাংক ঋণের জটিলতার কারণে বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ধুঁকছে, তা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কারখানা সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত নীতিগত সহায়তা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি, অন্যথায় এমন সংকট আরও বাড়তে পারে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ