রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির প্রশাসক স্বয়ং নিজে মিছিল নিয়ে মাঠে নেমে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শতাধিক অস্থায়ী দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেন। এ সময় হকাররা তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালিয়ে গেলেও আধা ঘণ্টা পর আবারও ফুটপাতে দোকান বসার প্রবণতা দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসকের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে গুলিস্তানে বিশাল মিছিলসহকারে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
- অভিযানে গুলিস্তানের ফুটপাত ও সড়ক থেকে শতাধিক থেকে শুরু করে প্রায় দুই হাজার অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
- প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অভিযান চালানো সত্ত্বেও অভিযানের মাত্র আধা ঘণ্টা পরেই হকাররা পুনরায় ফুটপাতে তাদের পসরা সাজিয়ে বসেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তানে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে মাঠে নেমেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থার প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতিতে ও একটি বিশাল মিছিল নিয়ে এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্তান এলাকার প্রধান সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ পথচারীদের চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার অবৈধ দোকান, টিশার্ট, জুতো ও বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আকস্মিক এই ঝটিকা অভিযানে হকারদের মধ্যে মুহূর্তের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিজেদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সিটি করপোরেশনের অভিযان শেষ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই অনেক হকারকে পুনরায় ফুটপাতে তাদের দোকান বসাতে দেখা যায়।
নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, কেবল বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন স্থায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং হকার নিয়ন্ত্রণের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। অন্যথায় ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারিত্বের এই চক্র ভাঙা সম্ভব হবে না। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা হবে।
রাজধানীর অন্যান্য অঞ্চলেও ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের এই ধারা লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি মিরপুর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) অনুরূপ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। নগরবাসীর যাতায়াত সহজতর করতে এবং রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের এই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপকে সচেতন মহল সাধুবাদ জানালেও স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।