লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তের বামনদল এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি কৃষকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় ৮৩৭ নম্বর প্রধান পিলারের ৪ নম্বর উপপিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। কৃষকদের ধাওয়ায় বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শনিবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের ৮৩৭ নম্বর প্রধান পিলারের ৪ নম্বর উপপিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
- বাংলাদেশি কৃষকদের ওপর লাঠিচার্জ করার অভিযোগে স্থানীয় কৃষকরা একত্রিত হয়ে বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া করলে তারা সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পালিয়ে যান।
- রংপুর ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনুল ইসলাম জানান, ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কৃষকদের মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের ৮৩৭ নম্বর প্রধান পিলারের ৪ নম্বর উপপিলারের কাছে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর ফলে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বামনদল সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কৃষকেরা নিজেদের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে কয়েকজন বিএসএফ সদস্য স্থানীয় একটি নদী পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারা কৃষকদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে নিরীহ কৃষকদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সহকর্মীদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কৃষকেরা একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া করেন। এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন। পালানোর সময় তারা বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর থেকে বামনদল সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সীমান্তবর্তী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ওই এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রংপুর ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এই অনধিকার প্রবেশ ও হামলার ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, উভয় বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে ও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে বিএসএফকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।