লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

কবরের অপেক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার লাশ ও আমাদের লজ্জা

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 26 অক্টোবর 2026, 05:57 বিকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 81 বার পঠিত
কবরের অপেক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার লাশ ও আমাদের লজ্জা
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

পিরোজপুরের যুদ্ধাপরাধ মামলার ঐতিহাসিক সাক্ষী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে স্থানীয় একটি মহলের বাঁধার মুখে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়। মধ্যরাতে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পিরোজপুর সদরে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • যুদ্ধাপরাধ মামলার অন্যতম বাদী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে স্থানীয় একটি বিশেষ মহল বাধা সৃষ্টি করে।
  • দীর্ঘ আইনি ও সামাজিক টানাপোড়েনের পর মধ্যরাতে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় পিরোজপুরে মরহুমের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
  • এই ঘটনার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষী মানিক পশারীর শেষ বিদায়ের সময় ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি এমন অবমাননা এবং দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আকুতি সত্ত্বেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার অন্তিম সৎকার ও দাফন নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ তৈরি হয়। একাত্তরের রণাঙ্গনের এই বীর সেনানি যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পরিনতিতে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পরিবর্তে এক ধরণের সামাজিক ও রাজনৈতিক অসহযোগিতার শিকার হতে হয় তার পরিবারকে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে গভীর রাতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, মরহুমের পরিবার ও জানাজায় অংশ নেওয়া সীমিত সংখ্যক মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিকে মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের সাথে এমন আচরণ শুধু অপরাধই নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় গৌরব ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তির আস্ফালন আবারও উন্মোচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ