বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনসংলগ্ন ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার পর লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আট দিনের ব্যবধানে পুনরায় বাঘের উপস্থিতি টের পেয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয়রা ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রাত জাগার পাশাপাশি সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ধানখেতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের পায়ের তাজা ছাপ পাওয়ার পর স্থানীয় তিনটি গ্রামে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
- মাত্র আট দিনের ব্যবধানে লোকালয়ে পুনরায় বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বন বিভাগের সহায়তায় আকাশে ড্রোন উড়িয়ে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
- পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মাইকিং করে গ্রামবাসীকে রাতে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবনসংলগ্ন লোকালয়ে ফের বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা ধানখেতে বড় আকারের বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়ার পর থেকেই গোটা এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। মাত্র আট দিনের ব্যবধানে একই অঞ্চলে পুনরায় বাঘের উপস্থিতি টের পাওয়ায় সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে এবং স্থানীয়রা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন।
খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। বাঘের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আকাশে ড্রোন উড়িয়ে বনের কাছাকাছি ধানখেত ও ঝোপঝাড়ে বাঘের সন্ধান চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকরাও এই তল্লাশি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রামজুড়ে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে একা ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং সন্ধ্যার পর নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে আসা বাঘটিকে নিরাপদে পুনরায় বনে ফেরত পাঠানোর জন্য বিশেষ কৌশল নিয়ে কাজ চলছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদে বারবার বাঘের এই হানা দেওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষিকাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দিনের বেলা কৃষকরা ঠিকমতো ধানখেতে কাজ করতে পারছেন না। বন্যপ্রাণী ও মানুষের এই সংঘাত নিরসনে এবং বনসংলগ্ন জনবসতির সুরক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর বেষ্টনী বা ফেন্সিং নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।