টানা বিদ্যুৎহীন ক্লাসরুম ও প্রশাসনিক অবহেলার প্রতিবাদে কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) পড়ুয়ারা তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন। যাদবপুর ও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংহতিতে মঙ্গলবার নাটক ও গানের মাধ্যমে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করবেন তারা। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে এই ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টানা দুই দিন ধরে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) ক্লাসরুম বিদ্যুৎহীন থাকায় পঠনপাঠন ও গবেষণার কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
- এসআরএফটিআই-এর এই ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইএসআই-এর শিক্ষার্থীরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ নিরসনে ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন উপাচার্য।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার মর্যাদাপূর্ণ সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা দুই দিন ধরে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলো বিদ্যুৎহীন থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবহারিক ক্লাস এবং গবেষণা মারত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের ভেতরেই নাটক ও গানের মাধ্যমে অভিনব পন্থায় নিজেদের অধিকার আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এই সংকটের সূত্রপাত মূলত দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাণের মতো কারিগরি ও ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হলেও কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ল্যাবরেটরি, সম্পাদনা কক্ষ ও ক্লাসরুমগুলো অন্ধকারে ডুবে থাকে। এই অবহেলার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রথম সোচ্চার হন এবং পরবর্তীতে তা বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি আরও জোরালো হয় যখন এসআরএফটিআই-এর এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই)-এর শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে যৌথভাবে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো খতিয়ে দেখতে ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন উপাচার্য।
দেশের শীর্ষস্থানীয় এই চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অচলাবস্থা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ ও গণমাধ্যমের উচ্চশিক্ষায় এ ধরনের প্রশাসনিক স্থবিরতা মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।