মুখ ঢাকবি না, মাইর হবে’,ভিডিওর সময় কাঁদতে থাকানারীর উদ্দেশে পুলিশ
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে একটি আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযানের সময় আটক নারীদের জোর করে মুখ দেখাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, 'মুখ ঢাকবি না, মাইর হবে'। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা পুলিশের এই আচরণকে বেআইনি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। অভিযানে ইউটিউবারদের ডেকে এনে ভিউ বাণিজ্যেরও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানীর আবদুল্লাহপুরের নিউ রংধনু আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযানে আটক নারীদের জোর করে ক্যামেরার সামনে মুখ দেখাতে বাধ্য করেছে পুলিশ।
- পুলিশ সদস্যদের 'মুখ ঢাকবি না, মাইর হবে' বলে নারীদের শাসানোর ঘটনা মানবাধিকার ও দেশের আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
- পুলিশের অভিযানে ইউটিউবার ও কিছু সংবাদকর্মীকে ডেকে এনে ভিডিও প্রচার করার বিষয়টি 'ভিউ' বাণিজ্যের অংশ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউ রংধনু আবাসিক হোটেলে গত ১২ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযান চালায়। এই অভিযানে বেশ কয়েকজন নারীকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, আটক নারীরা একটি কক্ষে বসে আছেন এবং তাদের ভিডিও করা হচ্ছে। নারীরা লজ্জায় ও আতঙ্কে শাড়ির আঁচল, ওড়না, মাস্ক বা হাত দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পুলিশের দুজন নারী সদস্য আটক নারীদের জোর করে ধরে মুখ দেখাতে বাধ্য করেন। একজন নারী কাঁদতে থাকলেও পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, 'সব খোল, সব খোল, এই মাস্ক খোল, ঢাকবি না, ঢাকলে কিন্তু মাইর হবে।'
জানা গেছে, অভিযানে ডিবির উত্তরা বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সূত্র জানায়, আটক নারীদের মুখ ঢাকতে বাধা দেওয়ার নির্দেশ তিনিই দিয়েছিলেন। যদিও ইলিয়াস কবির এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, পরিচয় নিশ্চিত হতে মাস্ক সরাতে বলা হতে পারে, তবে কাউকে মুখ দেখাতে বাধ্য করা হয়নি।
মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা পুলিশের এই আচরণকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান জানান, কোনো নারী অপরাধ করলে তার বিচার আদালত করবেন, কিন্তু বিচারের আগে পুলিশের এই ধরনের আচরণ বেআইনি। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদও একই মত দিয়ে বলেন, আইন কখনোই এমন চর্চাকে অনুমোদন করে না।
এছাড়া, পুলিশের এই ধরনের অভিযানে ইউটিউবার ও কিছু সংবাদকর্মীকে ডেকে এনে ভিডিও ধারণ করানো এবং তা প্রচার করে 'ভিউ' থেকে আয় করার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী পুলিশের এমন কাজে ইউটিউবারদের নিয়ে যাওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। ২০১২ সালে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনায় গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল, যা এক্ষেত্রে স্পষ্টতই লঙ্ঘিত হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।