আলোর উৎসব কালীপূজা ও দীপাবলীতে বর্ণিল সাজে সেজেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির, কালীঘাট ও তারাপীঠ। অমাবস্যার এই পবিত্র তিথিতে রাজ্যজুড়ে ঘরে ঘরে এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক মন্দিরে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঐতিহ্যবাহী ও গোপন বিভিন্ন তন্ত্রসাধনার প্রথার মধ্য দিয়ে বাংলার নানা প্রান্তে অত্যন্ত ভক্তিভরে উদযাপিত হচ্ছে শ্যামা পূজা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির, কালীঘাট ও তারাপীঠসহ পশ্চিমবঙ্গের প্রধান পীঠস্থানগুলোতে অমাবস্যার তিথিতে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটেছে।
- বাংলার বিভিন্ন তন্ত্রগ্রামে মৃত চণ্ডাল সধবার আঙুলের কড় দিয়ে পুজো এবং মায়ের জিভ লক্ষ্য করে নাড়ু ছোড়ার মতো প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময় প্রথা পালিত হচ্ছে।
- রাজ্যজুড়ে ঘরবাড়ি ও মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর রোশনাই এবং বিশেষ মাটির প্রতিমা তৈরিতে গোপন পুজোর নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আজ অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কালীপূজা ও দীপাবলি। এই উপলক্ষ্যে কলকাতার প্রখ্যাত দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির, কালীঘাট এবং বীরভূমের তারাপীঠ মন্দির চত্বর বর্ণিল বৈদ্যুতিক আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দিরগুলোতে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যারা মায়ের চরণে অঞ্জলি দিতে এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে সমবেত হয়েছেন।
শাক্তধর্মে বিশ্বাসী বাংলায় কালীপূজার ঐতিহ্য শত শত বছরের পুরনো। রাজধানী কলকাতার পাশাপাশি গ্রামবাংলার বিভিন্ন তন্ত্রগ্রামে এই পূজাকে কেন্দ্র করে নানা ঐতিহ্যবাহী ও রোমাঞ্চকর আচার পালিত হয়। কোথাও মৃত চণ্ডাল সধবার আঙুলের কড় দিয়ে বিশেষ পূজা সম্পন্ন হয়, আবার কোথাও প্রতিমা বিসর্জন বা পূজার সময় মায়ের জিভ লক্ষ্য করে নাড়ু ছোড়ার মতো ব্যতিক্রমী প্রথা প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ এই পূজার জন্য নির্ধারিত বিশেষ মাটির তৈরি প্রতিমা এবং গোপন দুটি প্রদীপের আলোয় সম্পন্ন হওয়া আচারগুলো বাংলার প্রাচীন লোকসংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভক্তদের সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনের সুযোগ করে দিতে দক্ষিণেশ্বর ও কালীঘাট মন্দির কমিটিগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে মন্দির চত্বর ও এর আশেপাশের এলাকা। ভক্তদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হতে পারে।
দীপাবলির এই আলো ঝলমলে উৎসব কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যেরও এক বড় প্রতীক। ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তিকে দূর করে আলোর জয়ের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই পূজাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কুটির শিল্পেও চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে, যা বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির মূল স্রোতকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।