চাঁদে স্থায়ীভাবে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনার লক্ষ্যে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। চাঁদের চরম আবহাওয়া এবং দীর্ঘ রাত মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে এই নিউক্লিয়ার রিয়াক্টর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানববসতি ও মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে একটি ফিশন সারফেস পাওয়ার সিস্টেম বা পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
- রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম এবং চীনের মহাকাশ প্রশাসন যৌথভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে লুনার বেস বা চন্দ্র ঘাঁটিতে পারমাণবিক শক্তি সরবরাহের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে।
- চাঁদের ১৪ দিনের দীর্ঘ রাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার কারণে সোলার প্যানেল অপ্রতুল হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পারমাণবিক চুল্লিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদে আধিপত্য বিস্তার এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এক তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে বিশ্বের তিন পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। মহাশূন্যে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এই লড়াইয়ে প্রতিটি দেশই তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির ফিশন চুল্লি চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চাঁদের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল, যেখানে পৃথিবীর ১৪ দিনের সমান এক দিন এবং ১৪ দিনের দীর্ঘ রাত রয়েছে। এই চরম আবহাওয়ায় সৌরশক্তি বা ব্যাটারির ওপর নির্ভর করে স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনা করা অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা বিকল্প শক্তি হিসেবে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা সরাসরি চাঁদের মাটি বা বিশেষ রোবটিক যানের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই প্রকল্পে প্রবীণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কিংবা আলাদাভাবে তাদের মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লুনার নিউক্লিয়ার রিয়াক্টর ডিজাইনের কাজ বহুদদূর এগিয়ে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদে প্রথম পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনকারী দেশটি পরবর্তীতে মহাকাশ বাণিজ্যে ও সামরিক কৌশলগত অবস্থানে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখবে।
এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নতুন এক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে। চাঁদের খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার পথে চাঁদমঞ্চকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের জন্য এই পারমাণবিক চুল্লি প্রকল্প বিশ্ব রাজনীতি ও প্রযুক্তির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।