ভারতের জয়পুরের এক বিজ্ঞানী প্রাচীন ভারতীয় 'রসশাস্ত্র'-এর সূত্র ও পদ্ধতি অনুসরণ করে বিষাক্ত পারদ থেকে ২৩ ক্যারেটের খাঁটি সোনা তৈরির যুগান্তকারী দাবি করেছেন। শতাব্দীপ্রাচীন অ্যালকেমি বা রসায়ন বিদ্যার এই ফর্মুলা আধুনিক বিজ্ঞান মহলে ব্যাপক কৌতুহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজ্ঞানীর দাবি পরীক্ষাগারে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই রূপান্তর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জয়পুরের ওই বিজ্ঞানী প্রাচীন ভারতীয় 'রসশাস্ত্র'-এর গ্রন্থ ও পান্ডুলিপিতে উল্লেখিত প্রাচীন অ্যালকেমি ফর্মুলা প্রয়োগ করে এই রূপান্তর করেছেন।
- তৈরি করা সোনাটি সাধারণ কোনো ধাতু নয়, বরং এটি ২৩ ক্যারেটের উচ্চ মানের সোনা বলে দাবি করা হয়েছে।
- পারদের মতো অত্যন্ত বিষাক্ত এবং ভারী ধাতু থেকে সোনা তৈরির এই দাবি আধুনিক বিজ্ঞান ও ধাতুবিদ্যা গবেষকদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রাচীন ভারতীয় 'রসশাস্ত্র'-এর সূত্র ও প্রাচীন পান্ডুলিপির নির্দেশিকা মেনে বিষাক্ত পারদ থেকে ২৩ ক্যারেটের খাঁটি সোনা তৈরির চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন জয়পুরের এক গবেষক ও বিজ্ঞানী। যুগ যুগ ধরে প্রচলিত অ্যালকেমি বা রূপান্তর বিদ্যার ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলে দাবি করেছেন। তার এই গবেষণার খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই বৈজ্ঞানিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও কৌতূহল।
ঐতিহাসিক ও প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান চর্চায় 'রসশাস্ত্র' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যেখানে বিভিন্ন ধাতুর রূপান্তর এবং চিকিৎসায় ধাতুর ব্যবহারের বিশদ বর্ণনা রয়েছে। ওই বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, তিনি আধুনিক ল্যাবরেটরিতে প্রাচীন সেই গ্রন্থগুলোর নির্দেশিত নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, ভেষজ উপাদান এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে পারদকে সফলভাবে সোনায় রূপান্তরিত করেছেন। তার এই দাবিকৃত সোনাটি ২৩ ক্যারেটের এবং এর গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়েছে।
তবে আধুনিক বিজ্ঞান এবং রসায়নবিদরা এই দাবিকে সহজে মেনে নিচ্ছেন না। বিজ্ঞানীদের মতে, পারদকে সোনায় রূপান্তর করতে হলে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন আনতে হয়, যা অত্যন্ত উচ্চ শক্তির কণা ত্বক বা পারমাণবিক চুল্লির বাইরে সাধারণ ল্যাবরেটরিতে অসম্ভব। প্রাচীন রসশাস্ত্রের এই পরীক্ষামূলক ফলাফল এবং আধুনিক পারমাণবিক পদার্থবিদ্যার তত্ত্বের ফারাক নিয়ে দেশজুড়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এই দাবির সত্যতা ও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন পরীক্ষাগারে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি এই দাবি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা ধাতুবিদ্যা এবং আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিশাল বিপ্লব ঘটাবে এবং প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানচর্চার কার্যকারিতাকে নতুন মাত্রায় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।