এসআইআর ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ আবেদন ঝুলে থাকায় তীব্র প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মাত্র ৫ মাসে ১.২৬ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হলেও বিশাল সংখ্যক আবেদন আটকে থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিচারপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ এবং নির্বাচন কমিশনের নতুন নতুন নির্দেশিকার মাঝে এই জট নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এসআইআর ট্রাইব্যুনালে ৫ মাসে মাত্র ১.২৬ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যা বর্তমান গতিতে চলতে থাকলে বাকি মামলা মেটাতে দীর্ঘ ১২ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
- অতিরিক্ত মামলার পাহাড় ও বিপুল পরিমাণ আবেদন ঝুলে থাকার প্রকৃত চিত্র আগে জানা ছিল না বলে উল্লেখ করে এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাইব্যুনাল থেকে নিজের দায়িত্ব ছাড়ার কারণ স্পষ্ট করেছেন।
- নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের খুঁজে বের করতে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) নিয়ে ফর্ম ৬ সহ বিশেষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
এসআইআর ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ আবেদন ঝুলে থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকা সংশোধিত বা বাদ পড়া নাম নিয়ে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া সাধারণ মানুষের আবেদনগুলো পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ মাসের কার্যদিবসে প্রায় ১.২৬ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হলেও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার বিশাল পাহাড়ের তুলনায় এই গতি অত্যন্ত মন্থর। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান নিষ্পত্তির হার অব্যাহত থাকলে সমস্ত মামলার সুরাহা করতে প্রায় এক যুগ বা ১২ বছর সময় লেগে যেতে পারে।
এই নজিরবিহীন মামলার জট ও জটিলতার কারণে বিচারব্যবস্থা এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি দায়িত্বপ্রাপ্ত এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাইব্যুনাল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার বা সরে দাঁড়াতে চাওয়ার কারণ হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া মামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যোগদানের পূর্বে কাজের এই অস্বাভাবিক চাপের পরিধি সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে বিচারকদের ওপর মানসিক চাপ এবং আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে দীর্ঘমেয়াদে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। ১৭ রাজ্যে এসএসআর (SSR) ঘোষণা করার পাশাপাশি কমিশন এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বিএলও (BLO)-দের ওপর নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে এখন আর শুধু নোটিশের পেচনে ছুটতে হবে না। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনরুদ্ধারের জন্য ফর্ম ৬ নিয়ে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে নির্বাচন কর্মীরা।
এই প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে ট্রাইব্যুনালের ওপর থেকে কিছুটা চাপ কমবে বলে আশা করা হলেও, লক্ষ লক্ষ বকেয়া মামলার স্থায়ী ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘমেয়াদে আইনি ও সামাজিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।