১৮৬০-এর দশকে নির্ধারিত মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. জুলি পারসোনেটের নেতৃত্বে ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দেড়শ বছরে মার্কিন পুরুষদের গড় তাপমাত্রা ০.৫৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৮৬০ সালে ড. কার্ল ভুন্ডারলিশ ২৫ হাজার রোগীর ১০ লাখ তথ্য বিশ্লেষণ করে ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটকে আদর্শ মানদণ্ড নির্ধারণ করলেও বর্তমান গবেষণায় তা ৯৭.৫ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে।
- স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণায় ১৮৬২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আধুনিক মানুষের শরীরের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় ০.০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে কমছে।
- বলিভিয়ার সিমানে আদিবাসীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে মাত্র দুই দশকে তাদের গড় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি থেকে কমে ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিসেবে স্বীকৃত থাকলেও আধুনিক গবেষণায় এই মানদণ্ড পরিবর্তিত হচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. জুলি পারসোনেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের গড় তাপমাত্রা কমে ৯৭.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৬.৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। ১৮৬২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের শরীরের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
এই তাপমাত্রার ইতিহাসের মূলে রয়েছেন জার্মানির লাইপজিগ হাসপাতালের চিকিৎসক ড. কার্ল ভুন্ডারলিশ। ১৮৬০-এর দশকে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত ২৫ হাজার রোগীর প্রায় ১০ লাখ বার তাপমাত্রা মেপে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে আদর্শ মান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে গবেষকরা বলছেন, উনিশ শতকের তুলনায় বর্তমান সময়ের পুরুষদের শরীরের গড় তাপমাত্রা প্রায় ০.৫৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেয়েছে। কেবল উন্নত দেশেই নয়, বলিভিয়ার আমাজন বনাঞ্চলের সিমানে আদিবাসীদের মধ্যেও গত দুই দশকে তাপমাত্রা কমার একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হ্রাস পাওয়াকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ড. পারসোনেটের মতে, উনিশ শতকে যক্ষ্মা, আমাশয় ও দাঁতের সংক্রমণের মতো রোগে মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সবসময় সক্রিয় থাকত, যা প্রচুর ক্যালরি খরচ করে শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিত। বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক ও টিকার সহজলভ্যতায় শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা কমেছে, ফলে বিপাকীয় হার ও শরীরের তাপ উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রায় ঘর গরম বা ঠান্ডা রাখার প্রযুক্তিগত সুবিধা (এসি ও সেন্ট্রাল হিটিং) মানুষের শরীরকে 'থার্মাল-নিউট্রাল জোন'-এ রাখছে। এর ফলে শরীরকে নিজস্ব তাপমাত্রা বজায় রাখতে বাড়তি শক্তি খরচ করতে হয় না। গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তন মানব বিবর্তনের একটি অংশ যা উন্নত জনস্বাস্থ্য ও জীবনমানের প্রতিফলন। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে জ্বরের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।