তীব্র মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা দিলেও জমে ওঠেনি ব্র্যান্ডের পোশাকের বাজার। বনানীর সায়মা ফ্যাশনে বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ এবং রাইজে ২০ লাখ থেকে কমে ১৫ লাখে নেমেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, দোকান খোলার সময় রাত ৮টায় সীমিত হওয়া এবং পূজার ছুটির পর ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলমান অর্থনৈতিক সংকটে পোশাকের বাজারে বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
- রাজধানীর বনানীর সায়মা ফ্যাশন আউটলেটে গত বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ এবং রাইজ ব্র্যান্ডের বিক্রি ২০ লাখ টাকা থেকে কমে ১৫ লাখ টাকায় নেমেছে।
- আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ হতে পারে, যার ফলে মানুষ পোশাকের মতো অপ্রয়োজনীয় বা শৌখিন খরচ কমিয়ে কেবল মৌলিক প্রয়োজন মেটাচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
টানা কয়েক বছর ধরে চলা দুই অঙ্কের কাছাকাছি উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের ব্র্যান্ডের পোশাকের বাজার চরম মন্দার মুখোমুখি হয়েছে। মোহাম্মদপুর, বনানিসহ রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন আউটলেটে পোশাকের দামে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় বা ডিসকাউন্ট ঘোষণা করা হলেও ক্রেতাদের আশানুরূপ উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই মৌসুমের ছাড়ের অফারগুলোতে দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শোরুমের তাকে পোশাক ঠাসা থাকলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বাজারের এই মন্দার পেছনে কাজ করছে বেশ কিছু কাঠামোগত ও প্রশাসনিক কারণ। দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনায় শপিং মল ও দোকানপাট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হচ্ছে, যা আগে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকত। এর ফলে কর্মজীবী মানুষ অফিস শেষে কেনাকাটার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। এছাড়া সম্প্রতি দুর্গাপূজা শেষ হওয়া এবং সামনে বড় কোনো উৎসব না থাকায় মানুষ তাদের ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের শুরুতে শীতের কাঙ্ক্ষিত আমেজ না থাকায় এবং আবহাওয়া অনিশ্চিত থাকায় ব্যবসায়ীরাও নতুন মৌসুমের পোশাক প্রদর্শন নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন।
শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস জানান, ২০২২ সাল থেকে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে মানুষের মজুরি সেভাবে বাড়েনি, ফলে ক্রেতারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকছেন। ক্যাটস আইয়ের অনলাইন সেলস এক্সিকিউটিভ সাজ্জাদ হোসেনের তথ্যমতে, তাদের ব্র্যান্ডের বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। রাইজের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন জানান, গত অক্টোবরে তাদের ২০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হলেও এবার তা কমে ১৫ লাখে নেমেছে। ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের অর্থ পরিচালক সানাউল হক বাবুলও সামগ্রিক বিক্রি অন্তত ২০ শতাংশ হ্রাসের কথা স্বীকার করেছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে। এই macroeconomic পরিস্থিতির কারণে নতুন কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বাস্তব আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রিটেইল ও লাইফস্টাইল শিল্পে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে, আগামী কয়েক মাস পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে এবং বাজারের এই শ্লথগতি দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।